মঙ্গলবার ৩১ জানুয়ারি ২০২৩
১৮ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
 
সরকারি রাস্তার মাটি বিক্রি! ইউপি চেয়ারম্যানের পকেট ভারী
আমিনুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩, ১:৪৯ পিএম
জনগনকে চাপসৃষ্টি করে সরকারি রাস্তার মাটি বিক্রি করেছে সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পিন্টু। 
এতে বাঁধা দিলে মামলার হুমকি দিয়েছে চেয়ারম্যান পুত্র।  

জানাগেছে, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সাটুরিয়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ বাড়ি এলাকার গাজীখালী নদীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রাস্তার মাটি কেটে বিক্রি করেছে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। প্রায় ৩৫ বছর আগে ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কাসেম আলী ওই রাস্তাটি নির্মাণ করেছিলেন। আশপাশের ৭ গ্রামের অসংখ্য লোক ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে হাটবাজার করতো। সেই রাস্তার মাটি কেটে বিক্রি করে দিয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান। 

স্থানীয় বাসিন্দা নাছির উদ্দিন বলেন, আমাদের বাপদাদার জমির উপর দিয়েই প্রায় ৩৫ বছর আগে কাসেম চেয়ারম্যান রাস্তাটি বানিয়ে ছিলো। সেই পুরনো রাস্তার মাটি কেটে বিক্রি করেছে আমাদের বর্তমান চেয়ারম্যান। আমাদের গ্রামে প্রতিবাদ করার মত লোক নেই। তাই চেয়ারম্যান ক্ষমতা দিয়েই রাস্তার মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করার সাহস পেয়েছে।

হাফিজ নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, এলাকার লোকদের বাধা উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান সরকারি রাস্তার মাটি কেটে নিয়েছে। আমাদের বাধা চেয়ারম্যান শুনেনি। চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ করে আমরাও আওয়ামী লীগ করি। তার বড় বড় লোক আছে তাই হুমকি ধামকি দিয়ে রাস্তা মাটি কেটে নিয়েছে। 

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান লোক ভালো না। তার ভয়ে এলাকার কেউ সাহস করে বাধা দিতে পারেনি। মিথ্যা মামলা হামলার ভয় দেখিয়ে চেয়ারম্যান পিন্টু সরকারি রাস্তার মাটি কেটে বিক্রি করেছে। তার ছেলে সোহাগ প্রতিদিন এসে লোকজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে রাস্তার মাটি কেটে মোটা অংকের টাকা কামিয়ে নিয়েছে। 

ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুবেল বলেন, রাস্তার উপর নদী খননের মাটি ফেলা হয়েছিল। সেই মাটি চেয়ারম্যান সাহেব কিনে নিয়ে ছিলো। নদী খননের মাটি বের করার রাস্তা না থাকায় ওই রাস্তা কেটে মাটি বের করা হয়েছে। তবে রাস্তা তেমন বড় ছিল না। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার মাটি কেটে নেয়ায় রাস্তাটি এখন আবাদি জমিতে পরিনত হয়েছে। অনেকেই রাস্তার জায়গায় বিভিন্ন জাতের ফসল রোপন করেছে। প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তার মাটি কেটে নেয়ার ফলে এখন আর রাস্তাটি ব্যবহার হচ্ছে না। রাস্তাটি প্রায় ৭ ফিট উঁচূ ছিল। ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হয়েছে এমন কিছু চিত্র এখনও দেখা যায়।  

এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি কোন রাস্তা কাটি নাই। আমি নদীর মাটি কেটেছি। ওইখানে যে রাস্তা ছিল সেই রাস্তা নদীতে ভেঙে গেছে। পায়ে হাটার মত রাস্তা ছিলো। ওই রাস্তার পাশ দিয়ে আরেকটি নতুন  রাস্তা করে দিয়েছি।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, চেয়ারম্যান কেন; কোন ব্যক্তিই সরকারি রাস্তা কাটতে পারবে না। যদি চেয়ারম্যান রাস্তা কেটে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডিএস/ এম আই




ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন



আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ  
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত  
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মিরাজুল ইসলাম
৭৯/২, নাজিরাবাজার লেন, বংশাল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: ৮৮-০২-৪৭১২১১১১, ০১৯৭৪-৫৬৪৯৮৭, ই-মেইল : dhakastate.news@gmail.com
কপিরাইট © ঢাকা স্টেট সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft